শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ থেকে সারা দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় সাভার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন চার নির্বাচন কমিশনার, বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজিসহ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। নিবন্ধন কেন্দ্রে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে চলবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। যাদের জন্ম ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে, তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া উপজেলা অথবা থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ, মৃত ভোটারের নাম বাদ ও নতুন ভোটারের তথ্য সফটওয়্যারের সাহায্যে ডেটা এন্ট্রি ও ডেটা আপলোড করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত। দেশব্যাপী এ কার্যক্রমে অংশ নিতে ৬৬ হাজার লোকবল ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া হালনাগাদ কার্যক্রমে উপকরণ বা সরঞ্জাম দিয়ে ইসিকে সহায়তা করছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।
রোববার সকালে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনে ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য নির্বাচন কমিশনকে প্রাথমিকভাবে ১৭৫টি ল্যাপটপ, ২০০ ডকুমেন্টস স্ক্যানার ও ৩০০ ব্যাগ দিয়েছে ইউএনডিপি। সিইসি বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ২০ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে। তাই আজ (গতকাল) কয়েকশ ল্যাপটপ, স্ক্যানার ও ক্যামেরা দিচ্ছে ইউএনডিপি। ভবিষ্যতে এগুলো আসতেই থাকবে। পুরো নিবন্ধন কার্যক্রমে তারা আশা করি সহায়তা দেবে। এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোটার তালিকা নিয়ে সন্দেহ দূর করতে আমরা কাজ করছি। কাল (আজ) থেকে মাঠে নামাচ্ছি। আশা করছি সন্দেহ দূর হবে। আমরা ছয় মাসের মধ্যে হালনাগাদ কার্যক্রম শেষ করার চেষ্টা করব। ভোটার প্রবৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। ৬৫ হাজার লোকবল কাজ করবে। অনেক প্রোগ্রাম নিয়েছি যাতে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে পারি।
এদিকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ও বয়স্ক, অদক্ষ এবং অপারদর্শীদের এ কার্যক্রমে নিয়োজিত না করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির নির্বাচন সহায়তা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী ইতিমধ্যে নিয়োগ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সব আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছেন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটারযোগ্য ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ এবং সুপারভাইজারদের মাধ্যমে যাচাই কার্যক্রম ২০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সম্পন্ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি অথবা তার আগে যাদের জন্ম, তাদের এবং বিগত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে যারা বাদ পড়েছেন, তাদের নিবন্ধনের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ কর্মসূচিতে ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে স্থানান্তরের কার্যক্রম চলবে। কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী, সুপারভাইজার, টিম লিডার, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট বা সাপোর্ট, প্রুফ রিডার ও ডাটা এন্ট্রি হেলপার পদে নিয়োগ কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন করা প্রয়োজন বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে গড়ে বিদ্যমান আড়াই হাজার ভোটারের জন্য একজন করে তথ্য সংগ্রহকারী এবং প্রতি পাঁচজন তথ্য সংগ্রহকারীর জন্য একজন করে সুপারভাইজার নিয়োজিত থাকবেন। তবে ভোটার এলাকার সঙ্গে সমন্বয় সাধন এবং ভৌগোলিক, প্রাকৃতিক, প্রশাসনিক, ভোটার এলাকার বিন্যাস ও অন্যান্য কারণে এই সংখ্যা কমতে বা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভোটার এলাকা অখ- রাখার লক্ষ্যে এই সংখ্যা কম-বেশি হতে পারে। ভোটার তালিকা বিধিমালা, ২০১২-এর বিধি ৪(৫) অনুযায়ী নির্ধারিত কর্মকর্তা বা কর্মচারী ও ব্যক্তিদের মধ্য থেকে তথ্য সংগ্রহকারী এবং সুপারভাইজার নিয়োগ করতে হবে।
নিয়োগের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্যানেল প্রস্তুত করার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা, কর্মক্ষমতা, সততা, সাহস ও নিরপেক্ষতার দিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। তাদের কর্মদক্ষতা, কর্মক্ষমতা, সততা, সাহস ও নিরপেক্ষতার ওপরই নির্ভুল ভোটার তালিকা অনেকাংশে নির্ভরশীল। তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্যানেল প্রস্তুতের সময় যথাসম্ভব তাদের পদমর্যাদা, জ্যেষ্ঠতা, বেতন স্কেল ও মূল বেতন বিবেচনা করতে হবে। প্রয়োজনে প্যানেলে অন্তর্ভুক্তদের ব্যক্তিগত বিষয়াদি যেমনÑতার শারীরিক, মানসিক অবস্থা, বয়স বা অন্য কোনো কর্মব্যস্ততা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে তালিকায় চিহ্নিত করে রাখতে হবে।
ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের সময়ে তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিতদের মধ্য থেকে প্যানেলভুক্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তথ্য সংগ্রহকারী যাচাই করে চূড়ান্ত নিয়োগ দিতে হবে। সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য পূর্ব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং যোগ্য সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী ও সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। যদি প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল পাওয়া না যায়, তবে উল্লিখিত অন্যান্য পর্যায়ের কর্মকর্তা বা কর্মচারী ও শিক্ষকদের মধ্য থেকে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ পাবেন।
এদিকে বাছাই কমিটির মাধ্যমে টিম লিডার, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট বা সাপোর্ট, প্রুফ রিডার এবং ডাটা এন্ট্রি হেলপার নিয়োগের জন্য প্যানেল প্রস্তুতের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে। তবে কোনো জেলায় উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে একই কার্যক্রমের জন্য অন্য জেলার প্যানেল তালিকা থেকে এসব পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে।
প্রতি উপজেলায় কমপক্ষে একটি রেজিস্ট্রেশন টিম থাকবে। প্রতি টিমে চার-পাঁচজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, একজন টিম লিডার, দুজন প্রুফ রিডার এবং একজন ডাটা এন্ট্রি হেলপার নিয়োগের ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে উপজেলার আয়তন এবং ভোটার সংখ্যা বেশি হলে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিসার প্রয়োজনে একাধিক রেজিস্ট্রেশন টিম গঠন করতে পারবেন। একজন অপারেটরকে প্রতিদিন গড়ে ৭০ জন ভোটারের ডাটা এন্ট্রি করতে হবে। তথ্য সংগ্রহ শেষ হলে নিবন্ধনকেন্দ্রে নিবন্ধন (বায়োমেট্রিকসহ) সম্পন্ন করা হবে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী বছরের ২ মার্চ।
সবশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী, দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ১৬০। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৭ ও নারী ভোটার ৫ কোটি ৯৭ লাখ ৪ হাজার ৬৪১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯৩২ জন।